মেয়ে হওয়ায় কি তবে অপরাধ
আমি নিজে মেয়ে হয়ে বলছি, হ্যা আমরা নিজেদের আধুনিক সমাজ নিয়ে গর্ব করি। প্রযুক্তি এগিয়েছে, শহর বড় হয়েছে, মানুষ চাঁদে গেছে-কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের চিন্তাধারা কি সত্যিই এগিয়েছে? বিশেষ করে যখন বিষয়টা মেয়েদের, তখন আজও এই সমাজ কত ছোট চোখে দেখে, সেটা প্রতিদিনের বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
একজন মেয়ে জন্মের পর থেকেই আলাদা নিয়মে বড় হয়। তাকে শেখানো হয়।।চুপ থাকতে, মানিয়ে নিতে শিখো, কম কথা বলো, বেশি সহ্য করো। ছেলেরা যা করলে স্বাভাবিক, মেয়েরা করলে সেটাই হয়ে যায় "সমস্যা"। মেয়ে জোরে হাসলে চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, নিজের মত প্রকাশ করলে বলা হয় "বেশি কথা বলে, আর স্বপ্ন দেখলে শোনানো হয় মেয়েদের এসব মানায় না।
শিক্ষিত সমাজেও এই মানসিকতা খুব একটা বদলায়নি। একজন মেয়ে সফল হলে বলা হয়, ভাগ্য ভালো ছিল, কিন্তু একজন ছেলে সফল হলে সেটা তার "যোগ্যতা"। কর্মক্ষেত্রে মেয়েরা আজও নিজেদের প্রমাণ করতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করে, অথচ সম্মান পায় অর্ধেক। সংসার সামলানোকে মেয়েদের দায়িত্ব ধরা হয়, কিন্তু সেটাকে কখনোই প্রকৃত কাজ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না।
আমরা ভুলে যাই, একজন মেয়ে আগে একজন মানুষ। তারও অনুভূতি আছে, স্বপ্ন আছে, নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার আছে। তাকে সম্মান মানে শুধু ফুল দেওয়া বা বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানানো নয়; সম্মান মানে তার কথা শোনা, তার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া, তাকে মানুষ হিসেবে দেখা।
আজ সময় এসেছে ছোট চোখে দেখা বন্ধ করার। কারণ যে সমাজ তার অর্ধেক মানুষকে ছোট করে
দেখে, সেই সমাজ কখনোই বড় হতে পারে না।
ছোটবেলা থেকেই বৈষম্যের শুরু
নিজের মত মানেই ‘সমস্যা’
শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রেও অবহেলা
সম্মান মানে কী?
পরিবর্তন আমাদের থেকেই শুরু
এই লেখা কোনো অভিযোগ নয়, এটা আত্মসমালোচনার ডাক। সমাজ বদলাতে হলে আগে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। মেয়েদের ছোট করে দেখা বন্ধ করতে হবে। কারণ যে সমাজ তার অর্ধেক মানুষকে ছোট করে দেখে, সেই সমাজ কখনো সত্যিকার অর্থে এগোতে পারে না।
আজ সময় এসেছে মেয়েদের মানুষ হিসেবে দেখার, সমান মর্যাদা দেওয়ার এবং একটি ন্যায্য সমাজ গড়ে তোলার।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url